Akhiruzzaman

মানুষ কেন মানুষকে খুঁজে?

মানুষ কেন মানুষকে খুঁজে?

মানুষ স্বভাবতই নিজেকে ভালোবাসে। সে তার সৃষ্টিকর্তাকেও ভালোবাসে। হূদয়বৃত্তির ব্যাপক একটি ভুবনে মূলত ভালোবাসা দুটি পর্যায়ে বিভক্ত: একটি হলো স্রষ্টার সঙ্গে সৃষ্টির প্রেম, অন্যটি হলো সৃষ্টির সঙ্গে সৃষ্টির প্রেম।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে: ‘আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন এবং তারা আল্লাহকে ভালোবাসে।’ (সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ৫৪)

আর তিনি (আল্লাহ) তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা আর-রুম, আয়াত: ২১)

সৃষ্টিকর্তা মানুষের স্বভাব-চরিত্রে যে প্রেমবোধ দিয়েছেন, তা শুধু নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সর্বব্যাপী। তাই মানুষ আপনজনের গণ্ডি ছাড়িয়ে তার ভালোবাসা আশপাশের সুবিস্তৃত পরিবেশমণ্ডলীতে ছড়িয়ে দেয়। ফলে দয়া-মায়া, প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা ও হূদয়ের টান একজন মানুষের পক্ষ থেকে অন্য মানুষ অবশ্যই পেতে পারে।

একজন মানবের ভালোবাসা একজন মানবীও পেতে পারেন। তবে সে ভালোবাসা হতে হবে বৈধ ও অনুমোদিত। মানুষ একা থাকতে পারে না। চলার পথে প্রয়োজন হয় একজন সঙ্গীর। সঙ্গীর সঙ্গে খুনসুটির মধ্য দিয়ে মানুষ নিজের নিঃসঙ্গতা দূর করতে চায়। কারণ নিঃসঙ্গ অবস্থায় বড় একঘেয়ে লাগে। সেই কারণে অন্য মানুষের সংস্পর্শে এসে নিঃসঙ্গতা দূর করতে চায়।

মানুষ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে চায় অন্যের কাছে। সেই কারণে অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চায়। এতে ব্যক্তিগত ক্ষোভ, দুঃখ, কষ্ট ভুলে থাকা যায়। এভাবে মানুষ সহজেই অপর মানুষের কাছে অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে।

 

 

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, ‘তার এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য হতে স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে শান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এর ভেতর নিদর্শন আছে সেসব লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে।’-(সূরা রূম: ২১)।

একাকীত্বের কারণে অথবা অন্য সমস্যার কারণেও মানুষ বিষণ্ণতায় ভুগতে পারে। আর মানুষ যখন হতাশায় ভুগে তখন কি পরিমাণ মানসিক বিপর্যয় ঘটছে তার নিজের, তা সে বুঝতে পারে না। কারণ বিষণ্ণতার প্রথম উপসর্গ হচ্ছে আত্ম-উপলব্ধির হ্রাস পাওয়া। তাই বিষণ্ণতাকে সনাক্ত করতে এবং দূর করতে প্রয়োজন একজন সঙ্গীর। যে সব সময় আপনার সাথে থাকবে, যার সাথে আপনি সবকিছু শেয়ার করতে পারবেন।

জীবনসঙ্গী মানুষকে আবেগ অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়, সামাজিকভাবে একত্রে রাখে, মানসিকভাবে সমর্থন দেয়, যার সব কিছুই সুস্থ স্বাভাবিক স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন। মানসিক চাপ কম থাকে: যদিও মাঝে মাঝে ঝগড়া লাগে তারপরও তার উপস্থিতি আপনার মনে এক ভালো লাগার অনুভূতি ছড়িয়ে দিবে।

আর এ জন্যই মানুষ মানুষকে খুঁজে!আল্লাহ মানুষেকে একে অপরের প্রতি দুর্বল করে সৃষ্টি করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading Logo
Scroll to Top