- সাহাবিদের ঈদের আনন্দ আর আমাদের ঈদের আনন্দে কত ব্যবধান।সাহাবায়ে কেরাম (তারা ছিলেন) সোনার মানুষ, আল্লাহর রাসুলের পিছনে ঈদের নামাজ পড়তেন। গোটা দুনিয়ার প্রতিটি মুহূর্তই ছিল ঈদের আনন্দ,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর উপস্থিতিতে উম্মত কি এতটা দুর্দশায় ছিল?
যদি আজকের এই দিনে, রাসুল সা : থাকতেন, যারা আমার নিষ্পাপ শিশুকে ও শহীদ করেছে, একজন নয় একাধিক নয়, হাজারে হাজার। আজকের ঈদের সালাতের পরে কি সাহাবীরা শপথ নিতেন না কঠিন প্রতিশোধের? রাসুলুল্লাহ সাঃ যেভাবে উসমান রাদিয়াল্লাহু হত্যার সংবাদ শুনে বাইয়াতের রেজওয়ানের শপথ দিয়েছিলেন ? আমরা কি সেই রাসুলের উম্মত নই? আমরা কি সেই সাহাবীদের উত্তরসূরী নই?
আমরা তো সেই রাসুলের উম্মত। একবার ঈদের দিন মহানবি সা. রাস্তার পাশে একটি ছেলেকে কাঁদতে দেখে তার কাছে যান। ছেলেটি বলল, তার মা ও বাবা কেউই নেই। মহানবি সা. ছেলেটিকে নিজের ঘরে এনে বলেন, আমি তোমার পিতা আর আয়েশা তোমার মা, ফাতেমা তোমার বোন আর হাসান-হোসাইন তোমার খেলার সাথী।
আমরা তো সেই ওমরের উত্তরসূরী, ওমর বলতেন পাহাড়ে গম ছিটিয়ে দাও যাতে কেউ বলতে না পারে মুসলিম দেশে পাখিরা ক্ষুধার্ত থাকে। হে আমার ভাই, হে উম্মাহতে মোহাম্মদ। আজ আমাদেএ কি হলো? আমাদের পূর্বসূরীরা ছিল গৌরব ও মর্যাদার অধিকারী,ঐক্যের প্রতীক। আমরা কেন তাহলে এত দ্বিধা বিভক্ত?হীনমন্যতা কিভাবে আমাদের গ্রাস করে রাখলো?
সাহাবীরা ঈদের দিনে হতেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞা,আমলের বিষয় ছিলেন ফেরেশান, উম্মার জন্য ছিলেন প্রাচীরের মত ঐক্যবদ্ধ। আর আমরা ঈদের নামাজ শেষ করেই লেগে পড়ি অশ্লীলতায়, গান, বাজনা, নাটক সিনেমা নন মাহারামের সাথে অবাধ আড্ডা এই আমাদের ঈদের অবস্থা।কেন আমরা এমন হয়ে গেলাম রাসূল সা: আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু উনার সিরাত তো আছে। সাহাবিরা বিদায় নিয়েছেন কিন্তু তাদের ইমান দ্বীপ্ত জীবনী তো আমাদের মাঝে ঠিকই রয়েছে। আমরা কেন জেগে উঠবো না,কেন আমাদের ভাই বোনকে নির্মম ভাবে হত্যা করার কারণে আমাদের হৃদয় কাঁদবে না ?
আমরা কি সেই মানুষ গুলো যাদের ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল সা: বলেছেন। শিগগির মানুষ তোমাদের আক্রমণ করার জন্য একে অপরকে আহ্বান করতে থাকবে, যেভাবে মানুষ তাদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার জন্য একে অপরকে আহ্বান করে।’ জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘হে আল্লাহর রাসুল! তখন কি আমরা সংখ্যায় কম থাকবো।’ তিনি বললেন, ‘না, বরং তোমরা সংখ্যায় হবে অগণিত। কিন্তু তোমরা সমুদ্রের ফেনার মতো(আবু দাউদ, হাদিস : ৭৫৩৯)
হে মুসলিম ভাই, গৌরব ও সম্মানের অধিকারী আমার বোন।যথেষ্ট হয়েছে উম্মার লাঞ্ছনা অপদস্তের ইতিহাস রচনার। যদি তুমি মনে করো দোয়া করা ছাড়া তোমার কিছুই করার নেই, তবে ওয়াল্লাহি আল্লাহর শপথ করে বলি গজব সুনিশ্চিত সেই গজবে তুমিও পতিত হবে। যদি লড়াই না করে তুমি তোমার জীবনকে হেফাজত করবে চিন্তা করো, আসমানি গজব তোমার সে জীবন কেড়ে নেবে। একবার সেই সব ভাইদের ঈদের আনন্দের কথা একটু ভাবুন। তাদের আত্মচিৎকারে আসমান কেঁপে ওঠে তোমার দিল কেন কেঁপে উঠে না?
দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করুন, এবার ঈদে সকল হারাম কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখার।মনে প্রানে চেষ্টা করবেন বেঈমানদের সকল প্রোডাক্ট কে এভয়েড করার ,বন্ধুদের আড্ডা গুলোতে অশ্লীল কথাবার্তা থেকে বিরত থাকুন, বরং আল কুদসের মুক্তি নিয়ে হিন্দুস্তানের মুক্তি নিয়ে বন্ধুদের আড্ডায় আলোচনা তুলুন। সামাজিকভাবে ইসলামকে শক্তিশালী করুন, নিজকে তৈরি করুন কঠিন পরিস্থিতিতে মুক্তির জন্য। গান-বাজনা অশ্লীলতা মুসলমান তরুণদের সাথে যায় না, এটা আমাদের ঈদের সংস্কৃতি নয়।
চোখ খুলে তাকিয়ে দেখুন রণাঙ্গন আপনাকে ডাকে? এখন সময় হয়েছে বিজয়ের,হে বোন নির্যাতিতরা তোমাকে ডাকে,একজন সালাউদ্দিন আইয়ুবর জন্য।তুমি কি তবুও বুঝবে না? আল্লাহ আমাদের সহি বুঝ দান করুন ।
ঈদ মোবারক।
সাইদুল ইসলাম সজীব
৩১/০৩/২০২৪