দুঃখ আমাদের ভয় দেখাতে আসে ভেঙে দিতে নয়।
দুঃখ আমাদের ভয় দেখাতে আসে ভেঙে দিতে নয়।স্রষ্টার প্রতি উদাসীনতাই (একমাত্র) দুঃখ আমাদের ভেঙ্গে দেয়। মানুষ তখনই সফল হয় যখন সে ভয়কে জয় করতে শেখে। কিছু ক্ষেত্রে তো বলা চলে সফলতার প্রথম ধাপ হচ্ছে দুঃখে ভারাক্রান্ত হওয়া
যখন ছোট ছিলাম তখন বুঝতাম না একটু বড় হওয়ার পর বুঝেছি, বাচ্চারা খেতে চায়না বলে আমরা অনেক সময় একটা কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে তাদেরকে ভয় দেখাই। যেন তারা খাবার খায়। উদ্দেশ্য তাকে ভয় দেখানো নয় বরং তাকে খাবার খাওয়ানো যাতে বাচ্চার শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে। সেই অবুঝ বাচ্চাটা চোখের টলমল পানি নিয়ে ভয়ে ঠিকই খাবার খায়, আর তখনই মায়ের মুখে ফুটে সোনালী হাসি।
২.
বড় হওয়ার পরে, আমাদের খুব আপন কিছু মানুষ। আমাদের ভুল শুধরে দিতে কখনো কখনো অভিমান করে নিজেদের লুকিয়ে রাখে। অভিমান করে কিছু সময় নিজেকে ঘুটিয়ে রাখার অর্থ চেড়ে চলে যাওয়া নয়, বরং আপনাকে কিছু সময় দেয়া (নিজের কর্ম নিয়ে ভাববার)। আমারা তখন দুঃখে ভারাক্রান্ত হই,আফসোস করে বলি যদি ওই কাজটি আমি কখনোই না করতাম। আর যখন আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পারি, অভিমান করার ব্যক্তিত বটেই আপনার মুখ থেকেও ঝরে পড়ে সোনালী হাসি।
৩.
দুঃখ কষ্ট হাসি আনন্দের এই বেড়াজালের মধ্যে আবদ্ধ আমাদের জীবন। দুনিয়ায় আসার পিছনে আমাদের এই জীবনের ও রয়েছে একটা উদ্দেশ্য। আমরা আল্লাহর বান্দা তিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য, আর পুরস্কার হিসেবে তিনি রেখেছেন জান্নাত। জান্নাত হবে পবিত্র মানুষদের বাসস্থান । মানুষ সবচেয়ে বেশি স্রষ্টার হককেই লংঘন করে, আর আমাদের সেই স্রষ্টার নাম যে রহমান। মানুষ যতবার স্রষ্টার আদেশ অমান্য করে ততবার যদি প্রিয় মানুষের মনে আঘাত করতো, তাহলে এই দুনিয়ায় কখনোই কেউ কারো প্রিয় হতো না।
আমাদের কর্মের ফল হিসেবে আল্লাহর পক্ষ থেকেও আসে অনেক দুঃখ, যেটাকে আমরা পরীক্ষা বলি । মুমিন ব্যক্তির হৃদয় যখন দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়। তখন সে আল্লাহর ইবাদত অনুশোচনার সাথে বাড়িয়ে দেয় । পরীক্ষা হিসেবে কখনো আসে,অর্থ, সম্পদ, অসুস্থতা, প্রিয়জন, ইত্যাদি নানান রকম। আর এই জায়গায় এসে রেজাল্ট নির্ধারণ হয়, কার গল্পটা কেমন হবে।বিশ্বাসী ব্যক্তিরা স্রষ্টার প্রতি তাওয়াক্কুল রেখে দোয়া ও তাওবাকে বেছে নেয়। আর পরাজিত ব্যক্তিরা দুঃখকে আজাব হিসেবে গ্রহণ করে নিজকে ভেঙে দেয়।
আমাদের মনে রাখা উচিত আজকের দুঃখ আগামীকাল থাকবে না। প্রতিটি দুঃখের পর একটি সুখের গল্প রয়েছে, একটা অন্ধকার রাত্রির পরে সুন্দর সকাল উদিত হয়। আল্লাহ বলেন নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।
তোমার প্রতিটি দুঃখের গল্পে তুমি ইতিবাচক চিন্তা করো। তোমাকে যে কষ্ট দিয়েছে তা চিন্তা না করে তোমার কারণে সে কি কষ্ট পাচ্ছে তার জন্য নিজেকে কাঠগড়ায় দাড় করাও । মায়ের ধমকে রাগান্বিত না হয়ে, মায়ের মমতার কথা স্মরণ করো। বিপদের দিনে ভেঙে না পড়ে গুনাহের জন্য অনুশোচনা কর । প্রচন্ড গুনাহ করার পর নিজেকে জাহান্নামে ভেবো না, তবুও একবার তওবা করার চেষ্টা করো, মনে রেখো আল্লাহ শেষ রাতে তোমাকে ডাকে তোমার ফরিয়াদ শোনার জন্য। আর তুমি যদি তা বুঝতে পারো তাহলেই তোমার জীবন হবে সুন্দর।
**আমার উপর বিপদ নেমে এসেছে আমি এজন্য ব্যথিত নই ও আমার প্রভু। আমার হৃদয় চুরমার হয়ে যাচ্ছে কারণ আমি যে তোমার অবাধ্য হয়েছি ।
**শেষ করবো যাকে নিয়ে এ লিখা তাকে উৎসর্গ করে। আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি সত্যিই, তার চেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছি তোমাকে কষ্ট রেখে। মৃত্যু পথযাত্রী এই জীবনে শুধুই দোয়া প্রত্যাশী।
সাইদুল ইসলাম সজীব
০৫/০৩/২০২৫