মালহামা ও আর্মাগেডন: ইরানে হামলার পর বিশ্ব কি পারমাণবিক যুদ্ধের মুখোমুখি?
ইরানে আমেরিকার সাম্প্রতিক হামলা বিশ্ব রাজনীতিতে মারাত্মক উত্তেজনা তৈরি করেছে। এটি কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘর্ষ নয়—বরং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ তথা হাদিসে উল্লেখিত “মালহামা” ও খ্রিস্টানদের “Armageddon”-এর সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে। বিশ্লেষণ করেছেন সাইদুল ইসলাম সজীব।
ইরানে আমেরিকার হামলা
ইরানে হামলা করার মাধ্যমে আমেরিকা শুধু ইরানের সাথেই সংঘাতে জড়ায়নি। বরং বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে ও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।একটা মহাযুদ্ধ হবে হাদিসে সে যুদ্ধকে বলা হয়েছে মালহামা। খ্রিস্টানদের ধর্মীয় পরিভাষায় মালহামাকে বলা হয় Armageddon (আর্মাগেডন)।
জেরুজালেমের বিষফোড়া গোষ্ঠী মালহামাকে লঞ্চ করতে চাচ্ছে। আমি এ বিষয় আলাদা একটি লেখায় বিস্তারিত বলবো। সাথে আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের যে নিজস্ব কোন ক্ষমতা নেই সে বিষয়ে পূর্বে ও বলেছি আবারো আপনাদের সামনে বিষয়টি তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ। এখন মূল আলোচনায় আসি। আমেরিকা মূলত সেই গোষ্ঠিটির এজেন্ডা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর তা এই হামলার মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে ।
ইরানে আমেরিকার হামলার মাধ্যমে পরিস্থিতি কত জটিল হয়ে গেছে
আজকে ইরানে আমেরিকার হামলার মাধ্যমে পরিস্থিতি কত জটিল হয়ে গেছে ভাবতে পারেন ? এখন ইরান যদি পাল্টা হামলা করে , তবে আমেরিকা তার ইগো রক্ষার্থে আবারও হামলা করবে। আর এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি তিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপ ধারণ করবে । মনে রাখবেন যতদিন যাচ্ছে বিশ্ব বাসী পরমাণু যুদ্ধের দিকে ক্রমশাই এগুচ্ছে। আর পরমাণু যুদ্ধ মুলত সাম্রাজ্যবাদের লড়াইয়েরই রেজাল্ট হবে। এ বিষয়ে আমি আমার ইউটিউব চ্যানেলে পূর্বে আলোচনা করেছি। কমেন্ট বক্সে চ্যানেলটির লিংক দিয়ে রাখবো দেখে আসতে পারেন।
ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে আগামী ৪৮ ঘন্টা আমাদের খুবই সতর্ক থাকতে হবে – যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সংবাদপত্র জানিয়েছে যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টাকে “সবচেয়ে সংকটপূর্ণ” মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেইজন্য তাদের তরফ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা প্রায় ৪০,০০০ মার্কিন সেনা ও মেরিনদের জন্য । নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানের প্রতিক্রিয়া শুধু মধ্যপ্রাচের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
এখন দেখার বিষয় ইরান কি করে? বলে রাখা ভালো ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়া সফরে গেছে। আর আমেরিকা ও (ই /স /রা /ই ল) এর কাছে ইরানের যদি পরাজয় হয়,তবে তা চিন ও রাশিয়ার জন্য বড় পরাজয় বলা চলে। যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে আরো বেশি শক্তিশালী হবে, চিন ও রাশিয়া ক্রমশ আরও অপ্রাসঙ্গিক হতে থাকবে। বিশেষ করে চীনের রয়েছে অনেক বড় মাথা ব্যথা।
আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন
পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে আমার কাছে মনে হয়, ইরান শীঘ্রই জবাব দিবে, কিন্তু জবাবটা কেমন হয় তা দেখার অপেক্ষায়। বিশ্বের চলমান পরিস্থিতি থেকে আমাদের অনেক কিছুই জানার এবং বুঝার আছে? আমরা কি তবে চূড়ান্ত মালহামার খুব নিকটবর্তী হয়ে গেছি?
রাসূলুল্লাহ ﷺ আরো বলেছেন:
> “إذا فسد أهل الشام فلا خير فيكم”
— “যখন শামের (সিরিয়ার) লোকেরা ধ্বংস হবে, তখন তোমাদের মধ্যে আর কোনো কল্যাণ থাকবে না।”
— সূত্র: [তিরমিযী, হাদীস 2192] — হাদীসটি হাসান
সাইদুল ইসলাম সজীব
২২/০৬/২০২৫