Akhiruzzaman

সৃজনশীল পাত্রী দেখা



এক গিয়েছেন বিয়ের পাত্রী দেখতে। পাত্রী মাদ্রাসা শিক্ষিত আলেমা। লোকটি বললেন, আপনার প্রিয় বিষয় কোনটি? উত্তর এলো, ফিকাহ শাস্ত্র। লোকটি বললেন, বাহ, মাশাআল্লাহ। খুব সুন্দর কথা। যাহোক, এখন সৃজনশীলতার যুগ। যদি অনুমতি পাই তবে আপনাকে একটা সৃজনশীল প্রশ্ন করি? – অনুমতি পাওয়া গেল।
_\
ধরুন, আব্দুর রহিম প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়া দ্বিতীয় বিবাহ করিলেন। ইহাতে প্রথম স্ত্রী মনে করিল তাহার নারী অধিকার ক্ষুণ্ণ হইয়াছে। অতএব সে এবং তার পক্ষীয় আত্মীয়রা এলাকার চেয়ারম্যান সাহেবের নিকট গিয়া নালিশ করিল। চেয়ারম্যান সাহেব আব্দুর রহিমকে বিচারের জন্য ডাকিলেন। বিচারের গ্যাঁড়াকলে পড়িয়া আব্দুর রহিমের মানসিক শান্তি নষ্ট হইয়া গেল।
.
– প্রশ্ন হইতেছে, এইখানে চারটি চরিত্র সম্পর্কে ফিকাহ শাস্ত্র কি বলে?
.
(১) আব্দুর রহিম কি দ্বিতীয় বিবাহ করিয়া অন্যায় করিয়াছেন?
(২) প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেয়াটা কি প্রয়োজন ছিল?
(৩) আব্দুর রহিমকে বিচারের জন্য ডাকিয়া তার মানসিক শান্তি নষ্ট করা কি উচিৎ হইয়াছে?
(৪) আব্দুর রহিমের সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইয়া দ্বিতীয় স্ত্রী মহিলাটি কি অন্যায় করিয়াছেন?
.
পাত্রী মুখস্থ উত্তর দেয়ার মতো উত্তর বলিয়া দিল।
.
(১) ইসলামী ফিকাহ শাস্ত্র অনুসারে বা নবীজী ছাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত অনুসারে আব্দুর রহিম কোন অন্যায় করেন নাই।
(২) অনুমতি নেয়ার কোন প্রয়োজন ছিল না। কারণ ইসলামে এরকম অনুমতির নিয়ম বা রেওয়াজ নাই।
(৩) বিয়ে কেন করল এই বিষয়ে আব্দুর রহিমকে বিচার করা যাবে না, তবে উভয়ের মধ্যে ইনসাফ রক্ষা করিতে না পারলে বিচার করা যেতে পারে।
(৪) ২য় স্ত্রী কোন অন্যায় করেন নাই। বরং প্রথম স্ত্রী বিচারের জন্য লাফ ঝাপ করে ২য় স্ত্রীর নারী অধিকার ক্ষুন্ন করেছে।
___
//
— আচ্ছা, আপনার স্বামী যদি আব্দুর রহিমের মতো দ্বিতীয় একটি বিয়ে করত আপনি কি করতেন?
.
পাত্রী (কিছুক্ষণ চিন্তা ভাবনা করিয়া) – আমার অভিভাবকদের সাথে কথা বলতাম যে উনার সাথে আর থাকব কি না।
.
পাত্র (মুচকি হাসিয়া) – এতক্ষণে ফিকাহ শাস্ত্র পরাস্ত হইয়া গেল।
.


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading Logo
Scroll to Top