Akhiruzzaman

বাংলাদেশের বুকে নীল দানবের থাবা !!!

বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পর্ণ আসক্তির ক্রমবর্ধমান অবস্থার ব্যাপারে ভয়ানক তথ্য হচ্ছে, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে নিয়মিত পর্ণ দেখায় সবচেয়ে বেশী আসক্ত হচ্ছে কিশোর-তরুণরা, যাদের বয়স সবারই ১৮ নিঁচে, তারপর আছে ১৯-৩০ বছর বয়সী যুবকরা, তারপর অন্যান্য !

🖋️🖋️২০১২ সালে অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে হওয়া একটি জরিপের ফলাফল থেকে দেখা যায়, ‘বাংলাদেশের ৮২% শিক্ষার্থী ঠিকমতো সময়-সুযোগ পেলে মোবাইলে পর্ণ দেখে ! ৬২% স্কুল-কোচিংযের ক্লাসে বসে স্মার্টফোনে পর্ণ দেখে ! আর ৪২% শিক্ষার্থী শুধু প্রেম করার উদ্দেশ্যে মোবাইল ব্যবহার করে !’

🖋️🖋️অথচ এবিষয়ে তাদের অভিভাবকদের বিন্দুমাত্র ধারণাও থাকেনা, কেননা তারা সেটা বিশ্বাসই করতে পারেন না, ভাবতেও পারেন না, তবে বাস্তবতা এটাই।]

🖋️🖋️”মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন” এর সমীক্ষায় দেখা যায়, রাজধানী ঢাকার ৮৬% কিশোরই বাস্তবে পর্ণাসক্ত (বয়স ১২-১৮) ! এরা আসক্ত…, মানে মাঝেমধ্যে বা একটু-আধটু নয়, এদের ডোজ লাগে দিনে বা সপ্তাহে নিয়মিত ! অথচ তাদের মধ্যে ২% এরও কম কিশোরের গার্ডিয়ানদের কেউ এবিষয়ে জানতে পারে !

🖋️🖋️BSS এর একটি জরিপ বলে আরও বিস্তারিত, ‘ঢাকার সাইবার ক্যাফেগুলি থেকে প্রতিমাসে বিভিন্ন বয়সের মানুষ যে পরিমাণ পর্ন ডাউনলোড করিয়ে নেয় তার মূল্য তিন কোটি টাকার উপরে !’ ‘এদেশের ফটোকপি ও মোবাইলে গান/রিংটোন ভরে দেওয়ার দোকানগুলোতে প্রতিদিন মেমরি, পেনড্রাইভ বা মোবাইলে বিক্রি হচ্ছে ২.৫ কোটি টাকা মূল্যের পর্ণ ভিডিও !’


দেশের ভিতর হওয়া অন্যান্য জরিপের ফলাফল এবার বলে যাই এক নাগাড়েঃ

🖋️🖋️দেশের ৬১.৬৫ ভাগ স্টুডেন্ট (শিক্ষার্থী) মোবাইলে পর্ণ দেখে ও ৫০.৭৫% শিক্ষার্থী নিয়মিত ইন্টারনেটে নতুন ক্যাটাগরির সব পর্ণ খুজে !

🖋️🖋️ বিটডিফেন্ডার কোম্পানির গবেষণায় দেখা গেছে, পর্ণ সাইটে যাতায়াত করে এমন প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনের বয়স ১০ এর নিচে ! আর এ-কমবয়সী দুধের বাচ্চাগুলোর কাছে ‘রেপ পর্ন’ বা ধর্ষণের ভিডিও, অর্থাৎ জোর করে সেক্স বা ‘নির্যাতন-ধর্ষন’ ক্যাটাগরির পর্ণ ভিডিওগুলো সবচেয়ে বেশি ফেমাস বা ফেভারিট, যেহেতু এগুলো সাধারণ সেক্স-ভিডিও পর্ণ থেকে বহুগুণ বেশী উত্তেজক !

🖋️🖋️গুগল ডাটাবেজ থেকে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে এক মাসে গুগলে ‘porn’ শব্দটি সার্চ করা হয়েছে ০.৮ মিলিয়নেরও বেশি ! ও ‘sex’ শব্দটি সার্চ করা হয়েছে ২.২ মিলিয়ন বারের চেয়েও বেশী, ‘rape porn’ অবশ্য সে তুলনায় কম।

🖋️🖋️ বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. শাবনাজ জাহেরীন গবেষণা করে দেখিয়েছেন যে, ‘বাংলাদেশের একটি বিভাগীয় শহরে ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের প্রতি একশ জনের মধ্যে ৬৬ জনই যৌন মিলনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। আর এর মূল কারণ হলো পর্ণোগ্রাফির সহজলভ্যতা ও গোপনীয় প্রসার !’

🖋️🖋️ভয়ানক তথ্য হলো, ‘বাংলাদেশের স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা পর্ন ভিডিও দেখে তাদের ৭০.৭৫% ছেলেই মেয়েদের শারীরিক ভাবে উত্তক্ত করার ইচ্ছা রাখে, অর্থাৎ জোরপূর্বক বা সাবধানে লজ্জাস্থানে হাত দেওয়া বা চাপ দেওয়ার চেষ্টা ! এমনটা তাড়া সবসময় করার চেষ্টা করে না, বরং যখন সুযোগ ও সময় মিলে তখনই চেষ্টা করে !’

🖋️🖋️মানুষ যা আগ্রহ নিয়ে বারবার দেখে বা শোনে, তার মধ্যে তা বাস্তবে করার প্রবল ইচ্ছা জাগে…। অর্থাৎ এদেশে যৌন হয়রানি ও ধর্ষন ভয়ানক হারে বাড়ার অন্যতম কারণ এটি, পর্ণ বন্ধ না হলে আরো বাড়বে, গ্যারান্টেড…।

🖋️🖋️বাংলাদেশ মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাইকোথেরাপি বিভাগীয় প্রধান ড. মোহিত কামাল বলেন, “এভাবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে পর্নো আসক্তি বাড়তে থাকলে আগামী দশ-বিশ বছরের মধ্যে দেশের সামাজিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা কিংবা ধর্মীয় অনুশাসন বলে কিছু থাকবে না…।”

সমাজের এতো অধঃপতনের মূল কারণগুলোর মধ্যে এটি একটা…। কম-বয়সীদের মধ্যে এর আসক্তির হার অবিশ্বাস্য, কেননা বিষয়টি পুরোপুরি ধরাছোঁয়ার বাইরে, তাদের বলা ব্যতীত জানা সম্ভব নয়, এর আগে আমরা এই অবস্থার সম্মুখিন কখনো হইনি, তাই তা কল্পনায় ধরা অসম্ভব…।

——— তবে এমনটা নয় যে বিবাহিত বা বয়স্ক কোন লোক এতে আসক্ত হতে পারে না, বাস্তবতা হচ্ছে চার সন্তানের পিতাও এখন চরমভাবে পর্ণ আসক্ত হতে পারে ! ধর্ষিতা হতে পারে কুকুর-বিড়াল-বাছুর, এমনকি মৃতদেহও ! সমকামিতার মাস্তুতো ভাই পশুকামিতা-মৃতকামিতার কথাই বলছিলাম আরকি ! সেগুলো বাদ, আপাতত পর্ন নিয়েই কথা বলি শুধু…।

চলবে,,

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading Logo
Scroll to Top