Akhiruzzaman

গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের পতন: ইসলামের অনিবার্য বিজয়ের শুরু?

জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের পতন | ইসলামই একমাত্র পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা|

আধুনিক গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ বিশ্বকে শান্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ইসলামই একমাত্র জীবনব্যবস্থা যা শত শত বছর ইনসাফ ও শান্তি নিশ্চিত করেছে। এই ব্লগে জানুন কেন এই মতবাদগুলো পতনের মুখে এবং ইসলামী শাসনের বিকল্পহীনতা।

গণতন্ত্রের পতন

একটা গভীর কথা হৃদয় দিয়ে বুঝে নিতে হবে সবাইকে।আমার কাছে মনে হচ্ছে, আল্লাহ খুব শীঘ্রই জাতীয়তাবাদ ও পশ্চিমাদের গণতন্ত্রকে বিশ্বব্যাপী অকার্যকর ও পতন করে দিচ্ছেন।

এবং গণতন্ত্রকে সবচেয়ে বেশি অকার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে মানুষের সামনে আনতেছেন খোদ আমেরিকা নিজেই। আপনি জানেন ও না খোদ আমেরিকাতেই গণতন্ত্র নেই। তারা আবার কোন গণতন্ত্র প্রচার করবে?

ইসলামের বাহিরে কত ব্যবস্থাই না পৃথিবীতে এসেছে।কিন্তু একজন মানুষ সততার সাথে বলতে পারবে না, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, অথবা এ জাতীয় মানব রচিত কোন বিধান দিয়ে পৃথিবীর ক্ষুদ্র অংশে শান্তি এসেছে।অথচ ইসলাম, ইসলামী সরিয়াহ শাসনের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে মানুষ , ইনসাফ ও শান্তি নিয়ে বসবাস করেছে শতশত বছর। এমন অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে।

তবুও আক্ষেপ করে বলতে হয়। মানুষ এসব কুফরি মতবাদকেই জীবন বিধান হিসেবে বেছে নিয়েছে। আমাদের আওয়ামী লীগ বিএনপির ভাইদের বুঝা উচিত, ইসলাম শুধু আখেরাত মুখি ধর্মের বিষয় নয় এটি একটি সম্পূর্ণ জীবন ব্যবস্থার নাম। আল্লাহ আপনাকে বিএনফির জাতীয়তাবাদ আওয়ামী লীগের সেকুলার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য দুনিয়া পাঠায়নি। এগুলো স্পষ্ট কুফরি হারাম মতবাদ।

মুসলমানদের অসহায়ত্বের বড় কারণ

আজকে সারা বিশ্ব মুসলমানদের অসহায়ত্বের বড় একটি কারণ হলো জাতীয়তাবাদ। জাতীয়তাবাদ এত বেশি শক্ত অবস্থানে পৌঁছে গেছে। যখন আমার পাশের দেশ আরাকানে মুসলিম নির্যাতন হয়, তখন আমাকে তাদের পাশে দাঁড়াতে দেয় না যে, সে এই জাতীয়তাবাদ। আমরা ভেবেই নিই আমার আর কি করার।

কিন্তু এবার সময় এসেছে ভিন্ন কিছু হওয়ার। মানুষ বুঝতে শুরু করেছে গণতন্ত্র শুধুমাত্র শোষণের হাতিয়ার, বিগত ১০০ বছর এই গণতন্ত্র দিয়ে শাসকরা শুধুমাত্র জুলুম করেছে। ইনসাফের ন্যূনতম স্বাদ মানুষ খুঁজে পায়নি।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি। তিনি যেন আমার আকাঙ্ক্ষা কবুল করেন। মনে রাখবেন, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের পতনের জন্য আফ্রিকা ও খোরাসান থেকে আল্লাহর বাহিনীরা বেরিয়ে পড়েছে। ইরান,জলপাই ভূমি, কাশ্মীর সহ অসংখ্য ভূখণ্ড থেকে গণতন্ত্রের পতনের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।

সময় এসেছে বদলে যাওয়ার,

সময় এসেছে বদলে যাওয়ার,বদলে দেয়ার।হয় জাতীয়তাবাদ গণতন্ত্র নিয়ে ধ্বংস হয়ে যাব, অথবা ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষর নিজের নাম লিখব। ইসলাম একমাত্র অজয়, এক অনিবার্য বিজয়ের হাতছানি।

প্রিয় ভাই ও বোন

আজকের পৃথিবী ভিন্ন এক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। আমরা যদি সততার চোখে তাকাই, তাহলে দেখতে পাব—মানব রচিত ব্যবস্থাগুলো শুধু ব্যর্থই নয়, বরং মানবতার ওপর এক দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা। গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ কিংবা সমাজতন্ত্র—সব কিছুর অন্তরালে ছিল লোভ, আধিপত্য আর শোষণ। অথচ ইসলাম আমাদের দিয়েছে এক পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা—যেখানে শাসক নয়, ইনসাফই সর্বোচ্চ; যেখানে বিভাজন নয়, উম্মাহর ঐক্যই মূল শক্তি।

আমরা যতদিন জাতীয়তাবাদের খোলসে আবদ্ধ থাকবো, ততদিন আমরা মুসলিম নাম ধারণ করেও মুসলিম উম্মাহর সত্যিকার দায়িত্ব পালন করতে পারবো না। সময় এসেছে প্রশ্ন করার—আমরা কাকে অনুসরণ করছি? সেই পশ্চিমা গণতন্ত্রকে, যারা নিজেরাই আজ তার মৃত্যু ঘন্টা বাজাচ্ছে? নাকি সেই ইসলামকে, যা শত শত বছর দুনিয়ায় ন্যায় ও শান্তির আলো ছড়িয়েছে?

আমরা যারা নিজেদের ইসলামপ্রেমিক দাবি করি, আমাদের বুঝতে হবে—ইসলাম শুধু নামাজ, রোজা আর দুআর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইসলাম মানে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রব্যবস্থা, একটি জীবনদর্শন। তাই আমাদের দাঁড়াতে হবে সত্যের পক্ষে, ইনসাফের পক্ষে। এখনো সময় আছে ফিরে আসার। নয়তো জাতীয়তাবাদ আর গণতন্ত্রের ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে শুধুই আক্ষেপ করতে হবে—”ইস! আমরা যদি সময় থাকতে বুঝতাম…”

—

📖 শেষ কথায় কোরআন ও হাদীসঃ

> “যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী শাসন করে না, তারা জালিম।”
“ومن لم يحكم بما أنزل الله فأولئك هم الظالمون” (সূরা মায়েদা: ৪৫)

 

> রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
“দাজ্জালের অনুসারীরা হবে ৭০ হাজার ইহুদি, যারা ইসফাহান শহর থেকে বের হবে।”
(সহিহ মুসলিম, হাদীস: ২৯৪৪)

 

—

তুমি কী ইতিহাসের বুকে সত্য ও ইসলামের বিজয়ের একজন সৈনিক হবে, না পতিত গণতন্ত্রের নিরব দর্শক হয়ে থাকবে—পছন্দটা এখনো তোমার হাতে।

সাইদুল ইসলাম সজীব
১৬/০৫/২০২৫http://www.akhiruzzaman.com/nationalism-democracy-collapse-islamic-system

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading Logo
Scroll to Top