Akhiruzzaman

“ইরানের পতন কি দাজ্জালের আগমনের পথ তৈরি করছে?”

ইরানের পতন, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও দাজ্জালের আগমন: ইসলামি দৃষ্টিকোণ

ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিপর্যয় কি দাজ্জালের আগমনের পূর্বাভাস? সহীহ হাদীস, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ। পড়ুন এক গভীর অনুধাবনের লেখনী।

/iran-fall-dajjal-sign-end-times-analysis

ইরানের পতনের ঘন্টা

ইরানের পতনের ঘন্টা মূলত ইব্রাহিম রইছির নিহত হওয়ার মাধ্যমেই শুরু হয়েছে।আমি মনে করি একটা জাতি অথবা রাষ্ট্রের পতন দুইভাবে হয়ে থাকে।এক সাথে সব কিছু নিয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া। অথবা কাপুরুষতা প্রদর্শন করে সারেন্ডার করা। ইরান এই মুহূর্তে আছে উভয় সংকটে।

আমি একটু আগে বলেছি ইসরায়েল পুরো মধ্যপ্রাচ্যের সাথে প্রস্তুতি নিয়ে যুদ্ধ নেমেছে। খুব সহজে এ যুদ্ধ থামছে না।সময় যত অতিবাহিত হচ্ছে পুরো বিশ্ব কে সে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ময়দানে নিয়ে যাচ্ছে।

আগামী ৪৮ ঘন্টা পুরো বিশ্বের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ

আগামী ৪৮ ঘন্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা পুরো বিশ্বের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসরাইল ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ জেনারেলসহ প্রায় শতাধিক মানুষকে নিহত করেছে। আর ঠিক একই ভাবে যদি ইরান ও ইসরাইলে হামলা করে তবে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের মাঠ পুরাপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। এখন দেখা যাক ইরান তা করে কিনা।

খুব সহজ ভাবে যদি বলি, ইরানের বৃত্তি নড় বড় হয়ে গেছে। ইরান যদি হামলা না করে, তবে যতই চুক্তি করুক না কেন,কিছু সময় অপেক্ষা করলেও ইসরাইল ঠিকই ভবিষ্যতে ইরানে হামলা করবে। আর যদি এখন হামলাও করে তবে৷ এ যুদ্ধের ব্যাপকতা আরো বাড়বে।এর মানে বুঝতেছেন কি এক কঠিন সিচুয়েশনে মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজ করতেছে।

ইরানের এই অবস্থার অন্যতম কারণ

আজকে ইরানের এই অবস্থার অন্যতম কারণ হলো। ইরান হিজবুল্লাহ কে তাদের চোখের সামনে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা, হুতিদের বিষয়ে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না করা, হামাসকে সামর্থ অনুযায়ী সহযোগিতা না করা। আর একে একে সকল বিপ্লবী দল যখন দুর্বল হয়ে গেছে ইরান তখন হয়ে গেছে ইসরাইলের প্রধান টার্গেট।

আপনাদের আরেকটা বিষয় বলে রাখি। ইরানের পতনের সাথে সাথে কিন্তু সিরিয়া আর খোরাসানের বিপ্লবীদের কে ময়দানে নিয়ে আসা। খেলা হবে তখন চোখে চোখে। এক কথায় হক ও বাতিলের চূড়ান্ত দ্বন্দ্ব, এ দ্বন্দ্বে কোন জাতীয়তাবাদ থাকবে না ।

টোটাল কথা হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে,কিংবা নিকটতম সময়ে ইরান পরাজিত হবে।আমি আমার পূর্বের লিখায় আপনাদেরকে জানিয়েছিলাম : ইস্পাহান (আরবিতে: আসবাহান) – ইরানের একটি ঐতিহাসিক শহর,এটি সেলজুক রাজ্যের প্রাচীন রাজধানী। 🔹

হাদীসের তথ্য অনুযায়ী : প্রিয় নবী ﷺ বলেছেন:
“দাজ্জালের অনুসারী হবে সত্তর হাজার ইহুদি আসবাহান (ইস্পাহান) থেকে, যাদের গায়ে থাকবে ত্বইয়ালিসা (বিশেষ পোশাক)।” 📚 সহীহ মুসলিম, হাদীস: 2944

ত্বইয়ালিসা: এটি এক ধরনের চওড়া পোশাক বা বিশেষ চাদর, যা ইহুদি ধর্মীয় নেতারা পরে থাকেন।

এটি থেকে বোঝা যায়, দাজ্জালের অনুসারীদের একটি বড় অংশ ইরানের ইহুদি সমাজ থেকে আসবে। এটি ভবিষ্যতে ইরানে দাজ্জালের ঘনিষ্ঠ প্রভাব ও ইসরাইল-ইরান সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকও নির্দেশ করে।এখন দেখা যাক এ যুদ্ধ ইরানের জন্য কি নিয়ে আসে।

প্রিয় ভাই ও বোনেরা দাজ্জালের আগমনের পূর্ব লক্ষণগুলো প্রতিনিয়ত আমাদের সামনে স্পষ্ট হচ্ছে। এখন সময় আমাদের জাগরণের। হক ও বাতিলের চূড়ান্ত সংঘাতের আগে আমাদের উচিত নিজেকে প্রস্তুত করা। কারণ, “যে কেউ ফিতনার সময়ে ধৈর্য ধারণ করবে, সে জান্নাতের পথে অগ্রসর হবে।”
আল্লাহ আমাদের দাজ্জালে ফিতনা থেকে হেফাজত করুক।

সাইদুল ইসলাম সজীব
লেখক ও গবেষক (আখিরুজ্জামান)

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading Logo
Scroll to Top