পশ্চিমা এজেন্ডার বাহক হতে থাকা নতুন রাজনৈতিক শক্তিকে রুখে দিন

বাংলাদেশে সম্ভাব্য পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী শক্তিকে প্রতিহত করুন | সাইদুল ইসলাম সজীব
একজন সচেতন মুসলিমের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নতুন রাজনৈতিক শক্তি NCP ও তার ইসলামবিদ্বেষী ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতামূলক বিশ্লেষণ। এ লেখায় উঠে এসেছে আন্দোলনে ইসলামী সংগঠনের ভূমিকা এবং নব্য জোটগুলোর বিপদ।
❝বাংলাদেশে পশ্চিমাদের সম্ভাব্য অগ্রগামী বাহিনীকে সাহায্য করা বন্ধ করুন❞
একটা দুঃখের আলাপ দিয়ে শুরু করি। আমাদের পরিচিত কিছু মানুষ, নিজের জান-মাল সব কিছু আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রেখে সর্বোচ্চ শপথ নিয়েছিল ছাত্র সংগঠনে। এমন দুইজন এক্স-শিবিরের সাবেক সদস্যকে দেখলাম, ফেসবুকে পোস্ট করতে: “NCP একদিন দাঁড়াবেই” — এই টাইপের কথা।
আমি একটা বিষয় বহু আগে বলেছি। আমার কথা আপনাদের পছন্দ হবে না, না হোক, তাতে কী?
নতুন একটা দল হয়, মুনাফিকরা খোলস থেকে বের হয়। আরো কিছু দল হোক, মুনাফিকরা নির্মূল হোক!
আমি কেন এসব বলছি জানেন? এদের মুনাফেকির আলামত হচ্ছে ৫ তারিখের পরে ভালোভাবে অনুসন্ধান চালালে দেখবেন—এদের অর্থনৈতিক সততা আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায়। আমি ডালাওভাবে সবার কথা বলছি না। কিন্তু এরা ইসলামী আন্দোলন কিংবা ইসলামী আন্দোলনের অর্থ বুঝিনি।
এটা শিবিরের জন্যও সতর্কতা—তারা কি সাথি-সদস্য বানাতে বেশ তাড়াহুড়ো করছে?
—
আমি পক্ষ নই—আমি একজন সচেতন মুসলিম
আমি এ কথাগুলো কোনো দলের পক্ষ হয়ে নয়, একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
NCP আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে। আর ভবিষ্যতের এই নব্য চেতনাধারীদের ফুলে ফেঁপে মোটা-তাজা করছে এক্স-শিবিরের কিছু বিপথগামী পোলাপান।
আমার লেখার শেষে তাদেরকে লানত দিয়ে শেষ করব।
—
বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস
আওয়ামী লীগ অথবা বঙ্গবন্ধু—স্বাধীনতা যুদ্ধের কোনো অবদান ছিল না, তা আমি বলবো না।
বিশেষ করে জাতীয় চার নেতার মুক্তিযুদ্ধে অবদান ছিল, মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর চাইতেও বেশি।
তবে বঙ্গবন্ধু নিয়ে কিছু সংশয় রয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের নেতা।
আমি তাজউদ্দিন আহমেদের মেয়ের বইতে পড়েছি, আরো কয়েকটি নির্ভরযোগ্য বই পড়ে যা বুঝলাম—শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে চাননি।
বরং তিনি চেয়েছেন অখণ্ড পাকিস্তানের ক্ষমতা।
বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ বলেন আর স্বাধীনতার ঘোষণা বলেন—এটা এসেছে মেজর জিয়া ও আরও কিছু সাহসী মানুষের থেকে।
স্পষ্ট কথা হলো—দেশ যদি বিভক্ত না হতো, জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তান সরকারের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করত, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে কখনোই তারা ফাঁসিতে ঝুলাত না।
—
মুক্তিযুদ্ধের অবদান কাদের?
বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ—স্বাধীনতা যুদ্ধে যাদের অসামান্য অবদান ছিলো, তারা তাদের অস্বীকার করে নিজেদের অতিরিক্ত ক্রেডিট নিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করেছে।
এখন আবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে মনে হয়।
আওয়ামী লীগ যেমন একমাত্র একাত্তরের চেতনায় নিজেদের রাজনীতির খোরাক খুঁজেছে,
NCP-ও সেই পথেই হাঁটছে।
—
আন্দোলনের মূল স্টেকহোল্ডারদের অস্বীকার—একটি বিপদ
জুলাইকে নিজেদের বাপ-দাদার সম্পত্তি মনে করে মূল আন্দোলনের স্টেকহোল্ডারদের অস্বীকার করা ভবিষ্যৎ বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়।
এক দল ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে, আরেক দল ভবিষ্যতে পশ্চিমাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে।
—
কোটার সমন্বয়ক বনাম আন্দোলনের নেতৃত্ব
আমি কোটার সমন্বয়ক নাহিদকে বলতে চাই:
কোটার সমন্বয়ক আর হাসিনা পতনের সমন্বয়ক এক নয়। আপনাদের নেতৃত্বে হাসিনার পতন হয়নি—এটা চূড়ান্ত কথা।
হাসিনার পতন হয়েছে এই দেশের ইসলামপন্থী এবং দেশাত্মবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কোটি জনতার মাধ্যমে।
—
শিবিরের অবদান অস্বীকারকারী শক্তি রেড অ্যালার্ম
এই আন্দোলনে শিবিরের অসামান্য অবদানকে অস্বীকার করে যে দলের বৃত্তি তৈরি হচ্ছে,
তা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ ও ইসলামপন্থীদের জন্য একেবারে রেড অ্যালার্মিং—এটা আমাদের বুঝতে হবে।
ঢাকার কথা বাদ দিলাম—আমার নিজ শহর নোয়াখালীতে একদিন শিবির আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়নি,
দিনটি ছিল জুমার দিন। আমি কাউকে সেদিন মাঠে দেখিনি আন্দোলন করতে।
—
আমি সতর্ক করছি, কাউকে উৎসাহ দিচ্ছি না
আজকের লেখায় শিবিরের অবদান নিয়ে আমি লিখতে বসিনি।
আমি আপনাদেরকে ভবিষ্যৎ বিপর্যয়ের দায়ীদের সম্পর্কে সতর্ক করতে বসেছি।
—
NCP–এর বিপদ ও চরিত্র
NCP বিষয়ে সচেতন হোন—এদের প্রতিষ্ঠা করা থেকে বিরত থাকুন।
তাসনিম জারা, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারি, ভবিষ্যতে মাহফুজও যে এ দলে এড হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
এদের চিন্তা-চেতনা অদৃশ্য আদেশের হুকুমে ডাবির দুই শিবির নেতাকে মাইনাস করা, উপদেষ্টা মহলে বসে থাকা কিছু চিহ্নিত ইসলামবিদ্বেষী।
চীন প্রশ্নে ভারত ও আমেরিকার দুশ্চিন্তা, আরাকানের যুদ্ধ—সব মিলিয়ে একটু ভেবে দেখুন, কাদের সাহায্য করছেন?
—
আদর্শিক অমিল, ইসলামবিদ্বেষ, ও আগাম বিপদ
এদের সাথে না আছে আমাদের সামাজিক অবস্থানের মিল, না আছে ধর্মীয় মূল্যবোধের মিল।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো আদর্শিক অমিল।
বাংলাদেশের রাজনীতি যে প্রেক্ষাপটের দিকে এগোচ্ছে, স্পষ্ট বলা যায়—
বিএনপি কিংবা এনসিপি—সবার সাথেই ইসলামপন্থীদের লড়াই অনিবার্য।
এক্ষেত্রে বিএনপির চাইতেও NCP বেশি বিপর্যয়ের কারণ হবে।
—
ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ ও হুঁশিয়ারি
আগামী দিনে NCP ইসলামপন্থীদের জন্য থ্রেট—এ বিষয়ে আমি পূর্বেই ব্লগে বিশ্লেষণ লিখেছি।
কমেন্ট বক্সে তার লিংক ও একটি ভিডিও দিয়ে রাখছি—দেখে আসতে পারেন।
আরেকটি বিষয় না বললেই নয়—আমেরিকা কেন বাংলাদেশে শক্ত অবস্থান নিতে চায় এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত লিখেছি,
ভবিষ্যতে বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করব। তার লিংকও কমেন্ট বক্সে দিয়ে রেখেছি।
https://youtu.be/qj76Oad-gf8?si=jx2pot9e-cW7Fct4
—
🔥 শেষকথা: বদদোয়া এবং চূড়ান্ত সতর্কতা
যারা এ অকৃতজ্ঞদেরকে প্রতিষ্ঠিত করছেন—আল্লাহ তাদের হেদায়েত এবং সুবুদ্ধি দান করুন।
আর যদি তাদের মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডা বাস্তবায়ন হয়, পশ্চিমা সংস্কৃতি এদেশে প্রবেশ করে—
তবে জীবিত অবস্থায় ও মৃত্যুর পরও আল্লাহ তাদের কবরের উপর লানত বর্ষণ করুন।
ডাকসু নির্বাচনের আগে শিবিরকে ঠেকানোর যে নোংরা খেলা নাহিদরা শুরু করেছে—
এই নোংরা খেলা দিয়ে শিবিরকে ডাকসুতে রোখা যাবে না ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহর ইচ্ছায় বিজয় আমাদেরই হবে।
সকল বাতিল শক্তি এক হলেও, আমরা আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে, শাহাদাতের তামান্নায়
আরেকটি বিপ্লবের জন্য তৈরি আছি।
ইনকিলাব জিন্দাবাদ।
সাইদুল ইসলাম সজীব
৩১/০৭/২০২৫