দীর্ঘ সময় ধরে মন খারাপের অনুভূতির মধ্য দিয়ে যাওয়া একজন মানুষের অভিজ্ঞতা, যিনি দুঃখ-কষ্টকে সৃজনশীলতার রূপ দিয়েছেন। এই লেখা আপনাকে মন খারাপ কাটাতে পথ দেখাতে পারে।
প্রচণ্ড মন খারাপ এবং দুশ্চিন্তায় থাকলে মানুষ নাকি ঠিকমতো খাবারও খেতে পারে না।
কিন্তু মন খারাপ হলে মানুষ যন্ত্রণা ভুলে থাকার জন্য কিছু না কিছু করেই। কেউ আল্লাহর কাছে দোয়া করে, কেউ গান শুনে কষ্ট ভুলতে চায়, আবার কেউ নেশাও করে।
আমি সবসময় চেষ্টা করেছি দুঃখ বা কষ্টকে উপভোগ্য কিছুতে রূপ দিতে। প্রথমেই আমি খুঁজে বের করতাম—ঠিক কোন কারণে আমার মন খারাপ। এখনও স্পষ্ট মনে আছে, ক্যাম্পাসে এক ছোট ভাই কাজ করত, যাকে আমি খুব স্নেহ করতাম। একদিন খেয়াল করলাম, তার নখগুলো অনেক বড় হয়ে গেছে। জিজ্ঞেস করলাম, “নখ কাটছো না কেন?” বললো, “এটা স্টাইল।” যাই হোক, একদিন তাকে ডেকে নিজেই তার নখ কেটে দিলাম।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে, কিছু মানুষ আমাকে ঘিরে নাটক সাজাল। এমনকি শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনার ষড়যন্ত্র পর্যন্ত করা হয়। সৌভাগ্যবশত, আমার প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল সাহেব আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই রাতটি ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা—অনেক মুখোশ খসে পড়েছিল। ঘুম হচ্ছিল না, হঠাৎ কলম হাতে তুলে নিয়ে মাত্র ১৫ মিনিটে লিখে ফেলেছিলাম ৫৬ লাইনের একটি কবিতা।
এই রকমই হয়ে থাকে আমার মন খারাপের সময়গুলো। আমি বুঝে নেই কেন মন খারাপ, তারপর লিখালিখিতে মন দেই। ইসলামের আলোকে কষ্টের তাৎপর্য কী, তা নিয়ে ভাবি। ইসলাম কী বলে এই হতাশা বা বিষণ্নতা থেকে উত্তরণের বিষয়ে, সেটাও লেখার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে। আমার বেশিরভাগ গানই আমার জীবনের ঘটনাবলির প্রতিফলন।
যত বড় গীতিকারই হোক, যদি জিজ্ঞেস করেন কীভাবে গান লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন, অধিকাংশই বলবেন—দুঃখ বা আনন্দ থেকেই এসেছে সেই অনুপ্রেরণা।
আমাদের তাই করা উচিত—যখন মন খারাপ হয়, তখন গান বা নেশায় না গিয়ে সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ করা। আপনি লিখতে পারেন কবিতা, গান, গল্প বা ডায়েরি। সেই লেখা একদিন বিখ্যাত হয়ে উঠতে পারে, অন্যের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কবি মতিউর রহমান মল্লিক
একবার কবি মতিউর রহমান মল্লিক এক ভাইকে তার গোপন কথা বলেছিলেন। পরবর্তীতে সেই ভাই তার কথাটি ফাঁস করে দেন। এরপর কবি লিখলেন—”সে কোন বন্ধু, বলা বড় বিশ্বস্ত!” আহ, রাসূলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা সে কবিতায় ফুটে উঠেছিল।
মন খারাপের শেষে অবশ্যই ভালো সময় আসে।
মন খারাপের শেষে অবশ্যই ভালো সময় আসেএকদিন আমরা নিজেকে এবং আমাদের সৃষ্টিকেই নিয়ে গর্ব করতে পারবো।
আপনারা জানেন, আমি অনেকদিন ধরে কোন গান, কবিতা কিছুই লিখছি না। কারণ কী জানেন? হয়তো আমি অতিমাত্রায় মন খারাপের মধ্যে আছি। এতটাই, যে মাঝে মাঝে ঠিকমতো খেতেও পারি না।
আজ ভাবছিলাম—এই মন খারাপের মধ্যে আমি কী করব? অবশেষে লিখতে বসে গেলাম। অন্তত কিছু না কিছু তো করলাম! যদি কখনো আমি বিখ্যাত হই, তাহলে হয়তো এই লেখাটাই ইতিহাস হয়ে থাকবে।
আর যদি বিখ্যাত না-ও হই, তাও বিশ্বাস করি—এই লেখায় হয়তো অনেকের জন্য কিছু না কিছু শিক্ষা রয়ে গেছে।
দুঃখ-দুর্দশার সময়ের দোয়া
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
“যে ব্যক্তি দুঃখ-কষ্ট বা চিন্তায় পড়ে এই দোয়া করবে, আল্লাহ তার কষ্ট দূর করবেন।”
দোয়াটি হলো:
اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ، وَابْنُ عَبْدِكَ، وَابْنُ أَمَتِكَ… (সম্পূর্ণ দোয়া সহিহ হাদিসে এসেছে)
— (মুসনাদে আহমাদ, সহীহ হাদিস)
—
২. আল্লাহই মন খারাপের ওষুধ
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
“আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার সঙ্গে আছি।”
— (সহীহ বুখারী, 7405)
আমার অনেকদিন ধরে মন খারাপ।
সাইদুল ইসলাম সজীব
১৮/০৫/২০২৫