Akhiruzzaman

“গণতন্ত্র বনাম ইসলামি শাসন: নির্বাচন, আকিদা ও তাকফির প্রসঙ্গে সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ”

 

গণতন্ত্র ও ইসলামি শাসনের মৌলিক পার্থক্য, নির্বাচন নিয়ে আকিদাগত প্রশ্ন এবং তাকফিরি মানহাজের বিপদ নিয়ে একটি স্পষ্ট, পরিপূর্ণ বিশ্লেষণ। হিকমত ও দাওয়াতের গুরুত্ব নিয়েও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা।”

গণতন্ত্র ও নির্বাচন আলাদা বিষয়

গণতন্ত্র একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উৎস হিসেবে ধরা হয়।

নির্বাচন হলো একটি পদ্ধতি, যার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয় — এটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়াও অনেক ধরনের শাসনে থাকতে পারে।

গণতন্ত্রের ও নির্বাচন পদ্ধতি আছে যাকে বলা হয় গণতান্ত্রিক নির্বাচন। যদিও শব্দটি গণতন্ত্র শুনতে ভালো মনে হয় কিন্তু কার্যত তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় ব্যর্থ। কিন্তু এই উপমহাদেশে বিষয়টি একেবারে প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে চাইলে ও খুব সহজে তা রাতারাতি চেঞ্জ করা সম্ভব না। এখানে বড়ো চিন্তার কারণ হয়েছে এটা কে আকিদা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। আওয়ামী লীগ-বিএনপি সহ সচারাচর দলগুলো যেটি করে।

গণতন্ত্রকে ‘আকিদা’র পর্যায়ে নেয়া শির্ক।

ইসলামের দৃষ্টিতে হুকুম বা আইন দেয়ার সর্বোচ্চ অধিকার একমাত্র আল্লাহর (সূরা ইউসুফ: ৪০)।
যদি কেউ গণতন্ত্রকে এমনভাবে গ্রহণ করে যে মানুষের মতকে আল্লাহর হুকুমের উপর রাখে, তখন এটা আকিদাগত ভুল এবং ঈমানহানির কারণ হতে পারে।
তবে শুধু নির্বাচন করা বা নির্বাচনে অংশ নেওয়া মানেই কেউ এ বিশ্বাস রাখে — তা নয়। নিয়ত ও বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে ফতোয়া।

আহলে সুন্নাতের অবস্থান

 

 

মূলধারার আহলে সুন্নাত আলেমগণ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিকে সাধারণত তাকফির করেন না। কারণ তারা এর পেছনে নিয়ত, প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনা করেন।
তারা বলেন, নির্বাচনে অংশ নিয়ে কেউ যদি সংসদে ইসলামের পক্ষে কথা বলে, হক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে — তাহলে সেটা নাজায়েজ নয় বরং প্রয়োজনীয় হিকমতের কাজ ।অবশ্য এ বিষয় অনেকর মতবিরোধ আছে। কিন্তু তাকফিরের বিষয় কি চিন্তা করে নি।

(Asis) ও তাকফির

(Daius) ও তাদের মতবাদ হলো তাকফিরি মানহাজ, যারা সামান্য ভিন্ন মতের লোকদেরও কুফরি ফতোয়া দেয়। তারা এ ভূখণ্ডের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অনেক আলেমকে কাফির বলেছে — যা মূলধারার কোনো আলেম গ্রহণ করেন না।
এই মানহাজ উগ্র, গোঁড়া এবং ফিতনার কারণ হয়েছে।

শরিয়াহ কায়েমের পথ

বর্তমান সময়ের নির্বাচনী পদ্ধতি দ্বারা পূর্ণ শরিয়াহ কায়েম সম্ভব নয়, কারণ এটি একটি সিস্টেমিক পরিবর্তন চায়।তবে মুসলিমদের দায়িত্ব হলো ধৈর্য সহকারে হিকমতপূর্ণভাবে কাজ করা, ঈমান আকিদা ঠিক রাখা এবং সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী দাওয়াহ ও রিফর্মে অংশ নেওয়া। এক্ষেত্রে দুটি বিষয় বেশি খুব বেশি মনোযোগ দেয়া যেতে পারে।

গ্রামে, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল কলেজ মসজিদের মিম্বার শরীয়াহ শাসনের গুরুত্ব বিষয় মানুষকে সর্বোচ্চ সচেতন এবং গুরুত্ব বোঝানোর চেষ্টা করা।

গণতন্ত্র একটি আকার্যকর ব্যবস্থা সে বিষয়ে জনমত গঠন করা। যখন সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ শরিয়াহ শাসনের পক্ষে গণতন্ত্রের বিপক্ষে থাকবে তখন যে কোন কিছু করাই সহজ হবে। এখন রিসার্চ এর বিষয় হচ্ছে দেশের কত পার্সেন্ট মানুষ সরিয়া শাসন চায়? আপনি আপনি দেখেন মাদ্রাসায় পড়ে ছেলেরা বিএনপি আওয়ামী লীগ করে এটাই এ দেশের বাস্তবতা।

এখন উপায় হচ্ছে : দাওয়াত, দাওয়াত, দাওয়াত, প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণ,। আর কাঙ্ক্ষিত দাওয়াতের রেজাল্ট পাওয়া পর্যন্ত সংসদে একটি দল থাকাটা তাকফির করার মত বিষয় নয়।

প্রিয় ভাই ও বোন।

তাকফির অত্যন্ত ভয়ংকর একটি ফতোয়া, যা সহজে দেওয়া যায় না।গণতন্ত্রে বিশ্বাস আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ এক বিষয় নয়।আমাদের দায়িত্ব হলো উগ্রতা থেকে দূরে থেকে, ইসলামের জন্য হিকমতের সাথে কাজ করা।আল্লাহ আমাদের সঠিক আকিদায় স্থির রাখুন এবং উগ্রতা ও বিভ্রান্তি থেকে হেফাজত করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading Logo
Scroll to Top