Akhiruzzaman

মুসলমানদের বিজয়ের রহস্য: আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞান ও প্রচেষ্টার অবিনাশী সূত্র

The Secret of Muslim Victory: Spirituality, Knowledge, and Effort

মুসলমানদের বিজয়ের রহস্য | আধ্যাত্মিকতা, তাওয়াক্কুল ও জ্ঞানের শক্তি

মুসলমানরা কেন একসময় অপরাজেয় ছিল এবং আধুনিক যুগে আবার কীভাবে বিজয়ী হতে পারে—আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞান ও প্রচেষ্টার কুরআনি সূত্রভিত্তিক বিশ্লেষণ।

একটা গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসা

মুসলমানদের বিজয়ের রহস্য কি? পূর্বে মুসলমানরা ছিল অপরাজেয় কিন্তু কোন সূত্রে তখন মুসলমানরা অপারাজেয় হয়েছিল। আর এই আধুনিক যুগে ও মুসলমানরা আবার কিভাবে পূর্বের মতো অপরাজেয় জাতি হতে পারবে। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসা….

মুসলমানদের শক্তির পিছনে বড় তিনটা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

পূর্বে মুসলমানদের শক্তির পিছনে বড় তিনটা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র ছিল আধ্যাত্মিকতা,জ্ঞান ও প্রচেষ্টা,। এই ৩ শক্তির বলেই মুসলমানরা অপরাজেয় হয়েছে। এখন আধুনিক জামানায় ও যদি মুসলমানের বিজয়ের সূত্র জিজ্ঞেস করেন। তাহলে উত্তর একই থাকবে আধ্যাত্মিকতা, জ্ঞান ও প্রচেষ্টা।

আধ্যাত্মিকতায় সকল কল্যাণের চাবি।

একটা জিনিস সব সময় মনে রাখবেন। আধ্যাত্মিকতায় সকল কল্যাণের চাবি। আল্লাহর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে, তাওয়াকুলের ক্ষেত্রে কোন কম্প্রোমাইজ করা যাবে না। আধ্যাত্মিকতাই জ্ঞানের তালা খুলে, জ্ঞান থেকেই প্রচেষ্টা আসে। জ্ঞান ছাড়া কর্ম অর্থহীন আবার কর্ম ছাড়া জ্ঞান অর্থহিন। আর এই দুই তখনই আসে যখন আধ্যাত্মিকতা মানে আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্কটা উচ্চমানের হয়।

আমাদের এ জাতির পতনের শুরু আধ্যাত্মিকতাকে দূরে সরিয়ে অতি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার কারণে । বর্তমানেও দেখা যায় কিছু মানুষ আধ্যাত্মিকতার চেয়ে রাজনীতিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। রাজনীতি করতে গিয়ে হালাল-হারাম কে খুব বাজে ভাবে ব্লেন্ডার করে। এটা ঠিক এমন কিছু দলকে
আল্লাহ সাময়িক রাষ্ট্র ক্ষমতা দিয়েছেন কিন্তু এদের দিয়ে আল্লাহ কখনো তাঁর দ্বীন বাস্তবায়ন করেননি। বরং নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর পরে অনেক ছোট দলকে ও আল্লাহ বিশ্ব শাসনের নেতৃত্ব নিয়ে এসেছেন। আবার অর্ধ পৃথিবী জয় করা অনেক সাম্রাজ্যকে বিলীন করে দিয়েছেন। আর যিনি সব অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে তিনি হলেন আল্লাহ। অতএব আল্লাহর হাতে সম্পর্ক এবং তাওয়াকুল হতে হবে সেই উচ্চমানের ।

মুসলমানদের ইতিহাস যারা সমৃদ্ধ করেছে

এখন আসেন মুসলমানদের ইতিহাস যারা সমৃদ্ধ করেছে পূর্বে তাদের দিকে একটু তাকাই।
উনারা কেমন মানুষ ছিলেন কি তাদের অবদান এমন কয়েজনের বিষয় একটু তুলে ধরি করি। আপনি বলেন তো গত একশো বছরের মুসলমানদের আবিষ্কার কি কি আছে? অথচ এই আধুনিক বিশ্বের এখনো অনেক তাক লাগানো আবিষ্কার মুসলমানরাই করেছে। যার রেজাল্ট শুধুমাত্র মুসলমানরা নয় সারা বিশ্ববাসী গ্রহণ করতেছে।

ইমাম মোহাম্মদ ইবনে মুসা আল খাওয়ারিজমী, যিনি গণিতের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের জনক ইবনে সিনা, আল-কানুন ফিত_তিব্ব ইউরোপের ৬০০ বছর মেডিকেলে পাঠ্য ছিল। এরপরে ইবনে আল হাইসাম, আল যাহারাবি, আল ইদরিসি, জাবের ইবনে হাইহান, এছাড়া ও এমন অনেক অসংখ্য সোনার মানুষ ইতিহাসের পাতায় সমৃদ্ধ হয়ে আছেন সভ্যতার জন্য তাদের অবদানের মাধ্যমে। লেখা লম্বা হওয়ার কারণে প্রত্যেকের আবিষ্কারগুলো তুলে ধরতে পারেনি। প্রত্যেকের নাম নিয়ে আসতে পারিনি। একটু ঘেটে দেখুন কি অসামান্য অবদান তারা রেখেছেন।

উনাদের জীবনী পর্যালোচনা করলে দেখবেন আল্লাহর সাথে তাদের সম্পর্ক এবং তাওয়াকুলের স্তর কত শক্তিশালী ছিল। তারা আগে আধ্যাত্মিকতাকেই বেছে নিয়েছেন আল্লাহ তাদের জ্ঞান ও প্রচেষ্টা বাড়িয়ে দিয়েছেন। বিশ্বের কাছে সম্মানিত করেছেন, আর তখন মুসলমানরা ছিল অপরাজেয়।

বৈরাগ্যবাদ ও  ইসলাম

 

আমি যেমন বৈরাগ্যবাদ ইসলাম সমর্থন করি না তেমনি মডারেট ইসলাম কেও না।বদরে 313 জন সাহাবীর সাথে আল্লাহ ফেরেশতাদেরকেও সঙ্গী করেছেন, কেন করেছেন জানেন? তাদের প্রচেষ্টা তাওয়াক্কুল ও বিশ্বাসের কোন ঘাটতি ছিল না। ফলে আল্লাহ হাজারের বিরুদ্ধে ৩১৩ জনকে জয়ী করেছেন। এখন আপনাদের জিজ্ঞেস করি এই সাহায্য কেবল কি শুধুমাত্র নবী-রাসূলদের জন্য? সাহাবিদের জন্য? আধুনিক যুগে ও কি এমন সাহায্য অসম্ভব?

আধুনিক যুগে আল্লাহর সাহায্য

আল্লাহ কি চাইলে শত্রুদের পারমানবমাগুলো নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারেন না? আরে আমরা তো সেই জাতি সেই বীরদের সন্তান।। আমিরুল মোমেনীন নীলনদের প্রবাহ বন্ধ হওয়ার পরে আমর ইবনুল আস রাহিমাহুল্লাহকে চিঠি লেখেন (তিনি বলেন আমি একটা চিঠি লিখেছি এ চিঠি নীল নদে নিক্ষেপ করবে)
নীল নদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন (আল্লাহর বান্দা ওমর আমিরুল মোমেনীন, ওমরের পক্ষ থেকে নীল নদের প্রতি, যদি তুমি তোমার ইচ্ছায় প্রবাহিত হও তবে তোমাকে আমাদের প্রয়োজন নেই, আর আল্লাহ যদি তোমাকে প্রবাহিত করেন তবে আল্লাহর কাছে আমি দোয়া করি, তিনি যেন তোমাকে প্রবাহিত করেন। এর পরে আল্লাহর কুদরতে নীলনদ আবারও প্রবাহ শুরু করে মানুষের দুর্ভোগ কেটে যায়।

সুবাহানাল্লাহ কি পরিমান তাওয়াকুল এমন কুদরতের সাক্ষী করে। ওমর রা: কি নবী ছিলেন? এখন আপনারা বলতে পারেন তিনি তো সাহাবী ছিলেন। প্রিয় পাঠক আল্লাহ কখনো বলেননি বদরের সাহায্য শুধু মাত্র নবীদের জন্য। তিনি বলেছেন আর কখনো নবী রাসুল আসবেনা। কিন্তু আল্লাহর সাহায্য আসবে না এ কথা তো তিনি বলেন নি।।

সাদ ইবনে আবু আক্কাস

 

সাদ ইবনে আবু আক্কাস এর কথা মনে আছে? পারস্য বিজয়ের সময় যখন তার সেনাবাহিনি নদীর সামনে পড়েছেন, প্রচন্ড স্রোত এবং নৌকা না থাকায় সেনাদের মনোভলের দিকে লক্ষ্য করে তিনি বলেছেন। এই নদী তো আল্লাহর অতএব নেমে পড়ো আল্লাহ আমাদের রক্ষা করবেন। মুসলিম সেনারা নদীতে নেমে পড়েন, কেউ ডুবে যায়নি আল্লাহর কুদরতে সেনারা যখন এগিয়ে যাচ্ছিল। ঘোড়াগুলো পানির উপর দিয়ে রাস্তার মত এগিয়ে যাচ্ছিল তা দূর থেকে দেখে পারস্য সৈন্যরা বিস্মিত হয়ে বলছিল এরা তো মানুষ নয় যেন জীন। আর এই বাহিনীর মোকাবেলা করার সাহস আমাদের কি আছে?অবশেষে মুসলমানরা সেই শহরে জয় করে ।

এই কুদরত যার থেকে আসে তিনি আল্লাহ

এই কুদরুত আর সাহায্য কার থেকে এসেছে জানেন?( আল্লাহ) যিনি ফেরাউনকে সমুদ্র ডুবিয়েছেন, জিনি নমরুদকে পাকড়াও করেছেন, যিনি আবু জাহিল আবু লাহাবকে ধ্বংস করেছেন। যিনি দৃষ্টান্ত হিসেবে আধুনিক জামানায়, বর্তমানে আপনারা যাদেরকে অপরাজেয় বলেন সেই আমেরিকায় এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন কে আফগানের মাটিতে নতজানু করেছে। আর এসব কিছু সম্ভব হয়েছে একমাত্র আধ্যাত্মিকতা, তাওয়াক্কুল এর যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে।

আল্লাহ এ জামানায় ও শত্রুর পারমানিক বোমা নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারেন। যদি আমরা সেভাবে তাওয়াক্কুল আর আধ্যাত্মিকতাকে গ্রহণ করতে পারে।মারকিন সেনারা বিমান থেকে নেমে এসে আফগান জনগনরে বলতো সাদা পাগড়ীওয়ালা এরা কার (আমরা থেকে বোম পেলি এবং তারা এগুলা হাতে নিয়ে নদীতে ফেলে দেয়) আফগানে আল্লার নিদর্শন বইটা পড়ে দেখতে পারেন।

ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রতি নসিহা

 

ইসলামী আন্দোলনের ভাইয়েরা খবরদার আল্লাহর সাথে সম্পর্কের বিষয়ে কখনো কমপ্রোমাইজ করা যাবে না। হারাম কে হালাল বানানোর দুঃসাহস করা যাবে না? সারা দুনিয়া এক পাশে গেলেও তুমি একজন হলেও তোমাকে আল্লাহ যা আদেশ করেছেন সে আদর্শের মধ্যেই দন্ডায়মান হতে হবে। তবে বিজয় তোমার পায়ের কাছে এসে হাজির হবে ইনশাআল্লাহ। ইতিহাস পরিবর্তনের সময় এসেছে এই শতাব্দী ইসলামের বিজয়ের শতাব্দী (ইনশাআল্লাহ) অতএব ভুল করা চলবে না ।

আল্লাহ বলেন :

সূরা আত-তালাক, আয়াত ২ ও ৩), যার অর্থ:

যে কেউ আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য (সমস্যা থেকে উদ্ধার পাওয়ার) কোন না কোন পথ বের করে দিবেন।আর তাকে রিযক দিবেন (এমন উৎস) থেকে যা সে ধারণাও করতে পারে না। যে কেউ আল্লাহর উপর ভরসা করে, তবে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ নিজের কাজ সম্পূর্ণ করবেনই। আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের জন্য করেছেন একটা সুনির্দিষ্ট মাত্রা।

উপসংহার

এই একটি আয়াত আল্লাহভীতি ও তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপর ভরসা)-এর গুরুত্ব বোঝায় এবং কঠিন পরিস্থিতিতে পথ ও রিজিকের আশ্বাস দেয়।

বিশ্বাসীদের আশ্বস্ত করে এমন অনেক আয়াত আল্লাহ কোরআনে নাজিল করেছেন। সুতরাং হে বিশ্বাসী আল্লাহকে তেমনভাবে স্মরণ করো যেমন ভাবে স্বরন করলে আল্লার সাহায্য আসে। আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখুন (উত্তম সুধারনা) আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

আবারো বলছি :আধুনিক জামানায় ইসলামের বিজয় সূত্র :আধ্যাতিকতা, জ্ঞান, প্রচেষ্টা। এর বিকল্প নেই।

সাইদুল ইসলাম সজীব
১৪/১/২০২৬

Everything About Islamic Ability

Tags :
আধ্যাত্মিকতা,ইসলাম,ইসলামী আন্দোলন,ইসলামী ইতিহাস,কুরআন ও সুন্নাহ,জ্ঞান ও সভ্যতা,তাওয়াক্কুল,মুসলিম উম্মাহ

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading Logo
Scroll to Top