Akhiruzzaman

তারেক জিয়া কি ইসলামপন্থীদের বন্ধু, না শত্রু? বাংলাদেশের রাজনীতির সামনে দুটি পথ

তারেক জিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান কি ইসলামপন্থীদের অনুকূলে হবে, নাকি তাদের বিরুদ্ধেই গড়ে উঠবে বিএনপি? এই বিশ্লেষণমূলক ব্লগে জানুন বাংলাদেশের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

 

খালেদা জিয়া ও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান—বিএনপির জাতীয়তাবাদের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি।

জাতীয়তাবাদ নিঃসন্দেহে ইসলামে হারাম। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যখন জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন আসে, তখন এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা নেতাদের মধ্যে খালেদা জিয়া ও শহীদ জিয়াউর রহমানই সবচেয়ে বেশি জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন—এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।

তারেক জিয়ার অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অবশ্যই বিতর্কিত। কিন্তু ভবিষ্যতে তিনি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মোকাবিলায় কী ভূমিকা নেবেন—এটাই এখন দেখার বিষয়। আজ তিনি কি ইসলামী আবেগকে কাজে লাগিয়ে জাতীয়তাবাদকে ইসলামপন্থীদের জন্য একটি আশ্রয়স্থলে রূপান্তর করবেন? নাকি ভবিষ্যতে বিএনপি-ই ইসলামি চিন্তাধারার প্রধান শত্রুতে পরিণত হবে?

—

সম্ভাব্য দুটি রাজনৈতিক বাস্তবতা:

১ তারেক জিয়া এরদোগান বা ইমরান খানের মতো হয়ে (ইসলাম) বিষয় জনগণের আবেগ কাজে লাগিয়ে জাতিকে নিজের দিকে ধরে রাখবেন।

২. নাকি বিএনপি সরাসরি ইসলামপন্থীদের শত্রু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

আপনাদের কাছে কোনটা বেস্ট মনে হয়?
—

তুলনামূলক বাস্তবতা:

ইমরান খান পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামীর উপর কোনো দমন-পীড়নের মাধ্যমে ক্ষতি করেননি। তিনি জনগণের আবেগ ও ধর্মীয় চেতনা ব্যবহার করে একটি বিকল্প আদর্শ দাঁড় করিয়েছেন, আর এটা সম্ভব হয়েছে মুসলিমদের পক্ষে গরম বক্তব্য দিয়ে। তিনি জাতিকে শরিয়াহ শাসনের বিকল্প আবেগ দেখিয়ে ব্রেনওয়াশ করেছেন। অথচ সত্যটা হলো—শরিয়াহ শাসনের কোনো বিকল্প পৃথিবীতে কখনোই হতে পারে না।আর এই ফর্মুলাতে জামায়াত অনেক বেশি সে দেশে কোনঠাসা হয়েছে

এই ভূখণ্ডে এমন কৌশলগত “ইসলাম-ঘেঁষা” রাজনীতির পুনরাবৃত্তি কি ঘটবে? ইসলামি বিপ্লবের নামে যদি আবার জাতীয়তাবাদী ধোঁকা আসে, তবে মুসলমানদের কী হবে?

—

শেষ কথা:

আল্লাহই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।
এই ভূখণ্ডের ভাগ্যে কী আছে—তা সময়ই বলে দেবে।
তবে আমাদের চোখ খোলা রাখতে হবে, যেন ইসলামি আবেগের নামে জাতীয়তাবাদের ধোঁকায় আবার না পড়ি।

আমার পাঠকের মধ্যে এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে জাতীয়তাবাদ কিভাবে হারাম হল?কয়েকটি রেফারেন্স নিচে দিয়ে দিলাম

 

কোরআন থেকে:

১. সূরা আল-হুজুরাত (৪৯:১৩):

“হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পারো। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অধিক সম্মানিত, যে সর্বাধিক তাকওয়াবান। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু জানেন ও সবকিছুর খবর রাখেন।”

 

এই আয়াত স্পষ্টভাবে বলছে, জাতি বা গোত্র বিভক্তি পরিচিতির জন্য, গর্ব বা শ্রেষ্ঠত্বের জন্য নয়।

—

২. সূরা আর-রুম (৩০:২২):

“তাঁর নিদর্শনাবলির অন্যতম হলো আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বিভিন্নতা। নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।”

 

আল্লাহ ভাষা ও বর্ণের ভিন্নতাকে তাঁর নিদর্শন বলেছেন, কোনো জাতিকে অন্য জাতির চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলেননি।

—

হাদীস থেকে:

৩. মুসলিম শরীফ (হাদীস ২৫৮৫):

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি ‘আসাবিয়্যা’র (গোষ্ঠীগত গর্ব) জন্য আহ্বান করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। যে তার জন্য যুদ্ধ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। আর যে তার জন্য মারা যায়, সেও আমাদের দলভুক্ত নয়।”

 

‘আসাবিয়্যা’ অর্থ জাতীয়তা, গোষ্ঠীভিত্তিক পক্ষপাত, অহংকার — যা ইসলাম স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করেছে।

—

৪. আবু দাউদ (হাদীস ৫১২১):

রাসূল (সা.) বলেন:
“আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্য জাহেলিয়াতের গর্ব — বাপ-দাদার গর্ব, জাতিগত গর্ব — এ সবকিছুকে রহিত করেছেন। এখন কেবল দুইটি গোষ্ঠী রয়েছে — মুত্তাকী ও পাপী।”

 

—

৫. হজ্বের বিদায় হাদীস (বিদায় হজ্বের ভাষণ):

“হে মানুষ! তোমাদের প্রতিপালক একজন, এবং তোমাদের পিতা আদম একজন। একজন আরবের ওপর অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠতা নেই, আর না কোনো অনারবের ওপর আরবের। শ্রেষ্ঠত্ব একমাত্র তাকওয়ায়।”

 

—

উপসংহার:

ইসলাম জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, গোত্রপ্রীতি বা জাতিগত গর্ব কে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর বিপরীতে ইসলাম ঈমান, তাকওয়া, উম্মাহর ঐক্য এবং মানবতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলে।

—

তাই, নিম্নলিখিত জাতীয়তাবাদী ধারণাগুলো ইসলামে হারাম:

“আমার জাতি সেরা”

“আমরা অমুক ভাষাভাষী বলে শ্রেষ্ঠ”

“আমরা অমুক দেশের নাগরিক বলে অন্যদের থেকে বেশি মর্যাদার অধিকারী”

বরং, ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি হলো:

“মু’মিনগণ পরস্পর ভাই ভাই” – (সূরা হুজুরাত, ৪৯:১০)

 

—

সাইদুল ইসলাম সজীব
৩০ মে ২০২৫

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading Logo
Scroll to Top